বৈসাবি ছুটিতে অনলাইন ক্লাস শুরু, উপস্থিতি কম; অভিভাবকদের আপত্তি
বৈসাবি উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তি এবং বাংলা নববর্ষের ছুটি থাকায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে রবিবার (১২ এপ্রিল) ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শ্রেণি কার্যক্রম চালু ছিল। ঢাকা মহানগরীর মাধ্যমিক স্তরের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য তিন দিন অনলাইন ও বাকি তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি
সপ্তাহের রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। আর শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইন ক্লাসে অংশ নেবে বলে গত ৯ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন। এরপর রবিবার (১২ এপ্রিল) বৈসাবি উৎসবের ছুটির দিন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অনলাইন ক্লাস শুরু করে। তবে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি কম ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকদের তীব্র আপত্তি
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে আপত্তি তুলেছে শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষাকারী অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, “আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধবিরতির কারণে অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস চালু করার কার্যকারিতা এখন আর প্রাসঙ্গিক নেই। যুদ্ধ বিরতি কার্যকরের ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই সারাদেশের অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম মনে করে, সশরীরে শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের কোনও বিকল্প নেই। শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান অসঙ্গতি নিরসনের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আইন করে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা জরুরি।”
সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডির নির্বাচন আয়োজন করার আহ্বান জানান ফোরামের এই সভাপতি।
ছুটির দিনে অনিশ্চয়তা
প্রসঙ্গত, রবিবার (১২ এপ্রিল) বৈসাবি উৎসব, সোমবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি এবং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সব স্কুল বন্ধ। ফলে রাজধানীর কোন কোন স্কুল অনলাইন ক্লাস করাবে আর কোন কোন স্কুল করাবে না তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলা পর্যন্ত অনিশ্চিত।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী অনলাইন-অফলাইন ক্লাস করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার অনলাইনে ক্লাসের নির্দেশনার বিষয়ে ওইদিন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “শনিবার স্কুলে ক্লাস হবে, এদিন ট্রাফিক কম। শুক্রবার অনলাইনে ক্লাস করালে বাবা-মায়েদের সমস্যা হবে। আমরা পাইলট হিসেবে চালু করবো।”
অনলাইন ক্লাস সারাদেশে শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মহানগরে যেখানে যানজট হয়— বরিশালের বা ময়মনসিংহের কথা বলিনি। আমাদের শহরের (ঢাকা) রিনাউন স্কুলগুলো, যেটাতে গাড়ি নিয়ে আসে যায়, যানজট তৈরি করে। সারা বাংলাদেশ না, সব মেট্রোপলিটনেও না। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবো।”
কোন কোন স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে, যাদের অনেক বাচ্চা গাড়িতে করে আসে তারা করবে। তবে আমি কাউকে জোর করে করতে বলিনি।”
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর আগামী জুলাই থেকে ও লেভেল, এ লেভেল পরীক্ষা, তারা অনলাইনে যেতে চাইছে না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কী সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “সেগুলো আরেকটি বিষয়। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।”



