বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শামীমা: বিজ্ঞান বই ও নারী লেখিকার সৃষ্টিতে মুগ্ধ এক শিক্ষার্থী
রাজশাহীর বাবুডাইং আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা খাতুন বই পড়ার এক অদম্য নেশায় আচ্ছন্ন। দশটি মেয়ের থেকে আলাদা, বইয়ের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর আগ্রহ তাকে প্রতিনিয়ত জ্ঞানার্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। শামীমা জানায়, বিজ্ঞান বই ও নারী লেখিকাদের সৃষ্টিকর্ম তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। সময় পেলেই সে বইয়ের পাতায় ডুবে যায়, নতুন নতুন বিষয় জানার জন্য তার আগ্রহ সীমাহীন।
বিজ্ঞান বই ও নারী লেখিকার প্রতি অনুরাগ
শামীমা খাতুনের ভাষায়, 'স্যার আমার বই পড়তে খুব ভালো লাগে, বিশেষ করে নারী লেখিকার বই ও বিজ্ঞান বই। বিজ্ঞান বইয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন জ্ঞান আমাকে খুবই আকৃষ্ট করে।' বিজ্ঞান বই পড়ে সে বিভিন্ন প্রাণী ও গাছ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছে এবং রাসায়নিক দ্রব্য চিনতে শিখেছে। স্কুলের 'বিজ্ঞান চিন্তা' থেকে নতুন নতুন কল্পগল্পও তার খুব প্রিয়।
স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বেগম রোকেয়ার বই পড়ে শামীমা জেনেছে নারী জাগরণের মূল মন্ত্র 'শিক্ষা'। সেলিনা হোসেনের উপন্যাস, জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলি' এবং সুফিয়া কামালের 'একাত্তরের ডায়েরী' ও তার রাজনৈতিক বিভিন্ন লেখা পড়ে সে মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেছে।
পারিবারিক পটভূমি ও স্কুল জীবন
শামীমার বাবা নুরুল হক গ্রামে কৃষি কাজের সাথে জড়িত, আর মা শিরিন বেগমও কৃষিকাজ করেন। তার এক ভাই ও তিন বোন রয়েছে। বড় ভাই মোঃ হয়রত আলী ঢাকায় ইমারত নির্মাণের লেবার হিসেবে কাজ করে। পরিবারের সকল সদস্যই বিভিন্ন কর্মে নিযুক্ত আছেন।
সদা হাস্যোজ্জ্বল শামীমা স্কুলের স্কাউটস দলের সাথেও যুক্ত। স্কুলে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে একাধিকবার পুরস্কারও পেয়েছে।
প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বাবুডাইং আলোর পাঠশালা এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শামীমা বলে, 'তারা আমার পাশে না থাকলে আমার পক্ষে এত বই পড়া সম্ভব ছিল না।' প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় বই পড়ার সুযোগ পেয়ে সে নিজের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারছে।
শামীমার এই বই পড়ার নেশা ও জ্ঞানার্জনের আগ্রহ তাকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সে অজানাকে জানতে চায়, নতুন নতুন বিষয় শিখতে চায়। বাবুডাইং আলোর পাঠশালার মতো প্রতিষ্ঠান ও প্রথম আলো ট্রাস্টের মতো সংস্থার সহায়তা পেয়ে শামীমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
