খুলনার আড়ংঘাটা থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
শিশুটির নাম মো. মিরাজুল ইসলাম। দিনমজর বাবা তাকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় এই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। তবে অভিযোগ, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ ও গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজ করাতেন। আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হতো।
শিশুটির মায়ের বক্তব্য
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, মিরাজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। গত রোববার বিকেলে তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশেই শিকলবন্দী অবস্থায় দেখতে পান শিশুটির নানা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের স্বীকারোক্তি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও মারধরের ঘটনা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা রত্না বেগম মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আসামি করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি হালিমুর রহমান।



