মাদরাসা শিক্ষকের পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু
ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আনন্দময় সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মাদরাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন (৫০) ও তার পরিবারের তিন সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মুফতি আব্দুল মমিন রাজধানী মোহাম্মদপুরের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সেখানেই তার সংসার ছিল। ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবার নিয়ে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। ঈদ শেষে প্রাইভেটকারযোগে পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন মমিন। কিন্তু, সেই যাত্রাই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ যাত্রা।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিনের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
মাদরাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন ছাড়াও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার স্ত্রী ঝর্না বেগম, সাত বছর বয়সী ছেলে সাইফ এবং আঠারো বছর বয়সী মেয়ে লাবিবা। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মমিনের বারো বছর বয়সী আরেক ছেলে আবরার।
নিহত মমিনের চাচাতো ভাই ওহিদ উল্যাহ জানান, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মমিন ছিলেন বড়। এর আগে তার আরও দুই ভাই মারা গেছেন। মমিন মোহাম্মদপুরে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই থাকতেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও শোক
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল বলেন, “এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন মমিন। কিন্তু, আর কর্মস্থলে ফেরা হলো না। এক যাত্রায় যেন শেষ যাত্রা হয়ে গেল।”
নিহত মমিনের মামাতো শ্যালক তারেক জামিল অভিযোগ করেন, “স্টার লাইনের বাস উল্টো পথে এসেই এ দুর্ঘটনা ঘটায়। তাদের খামখেয়ালিতে একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল।”
ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। একই পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। পুরো ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহত শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
পুলিশের ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি
ওসি আবদুল মমিন জানান, ঘাতক বাসটি জব্দ করা হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। প্রাইভেটকার ও বাসটি থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আবারও সামনে এনেছে। একটি পরিবারের চার সদস্যের অকাল মৃত্যু এলাকাবাসীকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। আহত শিশু আবরারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সবাই।



