দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: ২৩ হাজার ৮৮১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ২১ হাজার ৪৯১
দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২১ হাজার ৪৯১

দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: বিশদ পরিসংখ্যান ও মেধাক্রম

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত ১৪৪৭ হিজরি (২০২৬ সন) দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটি, পরীক্ষা মনিটরিং সেল, পরীক্ষা উপকমিটি ও নিরীক্ষদের যৌথ সভায় এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান যাত্রাবাড়ী।

পরীক্ষার্থী ও পাসের হার: একটি বিস্তৃত পরিসংখ্যান

এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৮৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ১৫ হাজার ২৬৮ জন এবং ছাত্রী ছিলেন ৮ হাজার ৬১৩ জন। সারাদেশে ১০৪টি ছাত্র মারকাজ ও ১৫৫টি ছাত্রী মারকাজে (কেন্দ্রে) এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগে মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৯১ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১৪ হাজার ১৮৬ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ৩০৫ জন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছাত্রদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও সাফল্যের একটি উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভাগভিত্তিক ফলাফল: কে কোন বিভাগে উত্তীর্ণ

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মুমতাজ (স্টার) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ১ হাজার ৪৭৮ জন এবং ছাত্রী ৯৭ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (প্রথম) বিভাগে ছাত্র ৪ হাজার ৫৫৯ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জায়্যিদ (দ্বিতীয়) বিভাগে ছাত্র ৫ হাজার ৮০২ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৪৮৯ জন সফলতা অর্জন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া মাকবুল (তৃতীয়) বিভাগে ছাত্র ২ হাজার ৩৪৭ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৭২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল (যবত) করা হয়েছে ২০ জনের, যা সামগ্রিকভাবে একটি নগণ্য সংখ্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মেধাক্রম প্রকাশ: শীর্ষস্থানীয়দের পরিচয়

পরীক্ষা প্রবিধি অনুযায়ী ছাত্র ও ছাত্রীদের মেধাক্রম পৃথকভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রতি ৫০০ জনে একজনকে মেধা তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ছাত্রদের ক্ষেত্রে ৩১তম এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ১৭তম পর্যন্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত মেধা তালিকায় ৯৩২ নম্বর পেয়ে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের খালেদ হাছান। ৯২৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার মো. আব্বাস। ৯২৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মুতাসিম বিল্লাহ এবং ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের মুহা. আবু রায়হান।

অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে ৮৯৪ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকার রামপুরার ফাতেমাতুয যাহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার আসমা। ৮৮৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারীর দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার মোছা. ফাতিমাতুয যাহরা। ৮৮১ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছে ঢাকার উত্তরা-১০ এলাকার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়ার তাহসিনা সিদ্দীকা মারিয়া।

ফলাফল দেখা ও প্রিন্ট করার পদ্ধতি

আল-হাইআতুল উলয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও মাদ্রাসার ফলাফল দেখা যাবে। মাদ্রাসার অ্যাডমিনরা HEMS সফটওয়্যারের নিজ নিজ আইডিতে প্রবেশ করে ফলাফল প্রিন্ট করতে পারবেন। এই ডিজিটাল পদ্ধতি ফলাফল প্রাপ্তি ও বিতরণকে আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করেছে।

এই ফলাফল প্রকাশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা দেশের ধর্মীয় ও উচ্চশিক্ষা খাতে অবদান রাখছে।