কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ১০ বছরের মেয়ে আইসিইউতে, পরিচালক গ্রেফতার
কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন, পরিচালক গ্রেফতার

কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পরিচালক গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক গাইনি পরীক্ষায় শিশুটির যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

মায়ের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ

শিশুটির মা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক (শিক্ষক) সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিচালককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মায়ের বর্ণনায় ঘটনার বিবরণ

শিশুটির মা জানান, তিনি সাত-আট মাস আগে মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক তার পরিবার নিয়ে থাকেন, আর দোতলায় শিশু শিক্ষার্থীদের রাখা হয়। ভর্তির পরই তিনি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে দুই মাস আগে মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে পরিচালকের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মেয়ে ঈদের ছুটিতে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। রোববার (১৫ মার্চ) মা মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখেন, তার পেট ও বাম পা ফুলে গেছে এবং অবস্থা সংকটাপন্ন। পরিচালকের স্ত্রী হাসপাতালে নিতে বাধা দিলে মা কুষ্টিয়ায় একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে আলট্রাসনোগ্রাম করান এবং পরে সোমবার (১৬ মার্চ) রামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন।

শিশুটির বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা

হাসপাতালে শিশুটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো রয়েছে এবং শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছে না। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিজে থেকে কিছু বলছে না। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সতীচ্ছেদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।