কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শিক্ষক পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ
কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শিক্ষক পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ

কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে সতর্ক করেছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ। সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমন ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ।

যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (দেওনার পীর), মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও যুগ্ম মহাসচিব মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসা উপমহাদেশের একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ধারার মাধ্যমে যোগ্য আলেম, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও দ্বীনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। এ শিক্ষাব্যবস্থার নিজস্ব নীতিমালা, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাদর্শ ও স্বকীয়তা রয়েছে, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন মহলের মাধ্যমে পরিবর্তনের বিষয় হতে পারে না। কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও শিক্ষা কারিকুলামের বিষয়টি সংসদ কর্তৃক মিমাংসিত ও আইনসিদ্ধ।

রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলে থাকেন, কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজার টুকরা, কওমি মাদ্রাসা থেকেই যোগ্য, মুহাক্কিক আলেম তৈরী হয়। আবার তিনি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার ও পরিমার্জনের বিষয়টি উল্লেখ করে দ্বিচারিতার প্রমাণ করেছেন। ২০১৮ সালের ৪৮ নং আইনটি ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত। ডা. শফিকুর রহমান এবং তার দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে আইনে স্বীকৃত উল্লেখিত বিষয় পরিমার্জিত করলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার অস্তিত্বের উপর হস্তক্ষেপ হবে বলে তারা মনে করেন।

সংস্কারের দাবি ও আহ্বান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কওমি মাদ্রাসায় সংস্কারের প্রয়োজন হলে তা কেবল কওমি আলেম, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহের মাধ্যমেই হতে পারে। যাদের কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই বা দেওবন্দি আকিদার অনুসারী নয়, তারা এ বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখেন না।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কওমি অঙ্গন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।

এই প্রতিবাদে শিক্ষক পরিষদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপই এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারবে না। তারা জনগণের সমর্থন ও ঐক্যের উপর জোর দিয়েছে, যাতে এই শিক্ষা ধারা তার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে।