গাজীপুর মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর সালনা এলাকায় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপনে প্রতিবেশীর পালিত ছাগল জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ‘জামিয়া মাদিনাতুল কুরআন মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার পাশের এক প্রতিবেশী নারী কুরবানির উদ্দেশ্যে একটি ছাগল লালন-পালন করছিলেন। ছাগলটি মাঝেমধ্যে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে যেত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক গোপনে ছাগলটি ধরে জবাই করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, “আমার ছাগলটি খুব সখের ছিল। মাদ্রাসার লোকজন সেটিকে ধরে নিয়ে জবাই করেছে। পরে এলাকার লোকজন এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, ছাগলটি দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রোপণ করা গাছের চারা নষ্ট করছিল। এ বিষয়ে মালিককে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাদ্রাসার পরিচালকের ছেলে মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তেমন নয়। ছাগলটি বারবার মাদ্রাসায় ঢুকে গাছপালা নষ্ট করছিল। ঘটনার দিন ছাত্ররা সেটিকে আটক করলে ছাগলটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটি জবাই করা হয়। স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে ছাগলের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।”
সালিশের সিদ্ধান্ত
মাদ্রাসার মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি তৌফিক উদ্দিন বলেন, “রাগের মাথায় অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়েছে। এটি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করাই ভালো।”
ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করলেও সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।



