হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শিকলে বাঁধা দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উদ্ধার, প্রশাসন হস্তক্ষেপ
শিকলে বাঁধা দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উদ্ধার, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শিকলে বাঁধা দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উদ্ধার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় দুই শিশু মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদের সামনের বাজার এলাকা থেকে শিশু দুজনকে উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের পরিচয়

উদ্ধার হওয়া শিশু দুজনের নাম মারুফ ইসলাম সবুজ (৯) ও সায়েম মিয়া (৮)। মারুফ ইসলাম সবুজ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে, অন্যদিকে সায়েম মিয়া বানিয়াচং উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বেলু মিয়ার সন্তান। তারা পরস্পর আত্মীয় এবং একই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিশুদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের মধ্যে তাদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "তাদের মা-বাবাকে খবর দিয়ে থানায় এনে দুই শিশুকে তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের পালানোর ইতিহাস ও শাস্তির কারণ

অভিভাবকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত রমজানের ঈদের পর থেকে শিশুরা ইতোমধ্যে চারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে। গত ৩-৪ দিন আগেও তারা পালিয়ে গিয়েছিল এবং বাহুবল থেকে ধরে আনা হয়। বারবার পালানোর কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে শিশুদের শিকলে বেঁধে মাদ্রাসায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে সুযোগ পেয়ে শিশুরা শিকল কেটে বাজারে চলে আসে।

প্রশাসনের সতর্কতা ও পরামর্শ

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, "এভাবে শাসন করা উচিত নয়। এ ধরনের শাস্তি শিশুদের মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।" তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, "শিশু দুজন শিকলে বাঁধা অবস্থায় চুনারুঘাট বাজারে উপজেলা পরিষদের সামনে চলে এসেছিল। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন। পরে আমি থানার ওসি সাহেবকে খবর দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে বলি এবং তার কাছে শিশুদের হস্তান্তর করি।"

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিশুদের বারবার পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে তারা এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। তবে প্রশাসন শিশু অধিকার রক্ষায় জোর দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করেছে।