বিজ্ঞান ও গবেষণার জগতে নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এই বিশেষ সাবস্ক্রিপশন সেবা নিয়ে কাজ করছে, যা মূলত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের চাহিদা পূরণে তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন ফিচারে কী রয়েছে?
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি লিকের মাধ্যমে এই সাবস্ক্রিপশনের তথ্য প্রথম প্রকাশ পায়। চ্যাটজিপিটির ওয়েব ভার্সনের কোডে এই ফিচারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি এখন উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত নয়।
বর্তমানে ওপেনএআই তাদের সেবা তিন স্তরে প্রদান করে: ব্যক্তিগত ব্যবহার, টিম এবং এন্টারপ্রাইজ। ধারণা করা হচ্ছে, ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’-এর ক্ষেত্রেও একই মডেল অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, এটি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার এবং স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়।
বিজ্ঞানে ওপেনএআইয়ের বিশেষ মনোযোগ
এটি প্রথম নয় যে ওপেনএআই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি তারা ‘জিপিটি-রোজালিন্ড’ নামের একটি বিশেষ মডেল উন্মোচন করেছে, যা জিপিটি-৫.৫ আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সাধারণ চ্যাটজিপিটির তুলনায় এটি লাইফ সায়েন্স এবং বড় গবেষণায় অনেক বেশি কার্যকর। বর্তমানে এটি শুধুমাত্র ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘ট্রাস্টেড-অ্যাক্সেস’ কাঠামোয় চালু রয়েছে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’-এর মাধ্যমে ওপেনএআই তাদের উন্নত গবেষণা টুলগুলোকে সীমিত পরিসর থেকে বের করে আরও বেশি অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। এই নতুন সংস্করণ বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, নতুন আবিষ্কার এবং গবেষণার জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ও নির্ভুল করবে, যা সাধারণ চ্যাটজিপিটি দিয়ে সম্ভব নয়।
যদিও ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই সাবস্ক্রিপশন সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেয়নি এবং মুক্তির তারিখ জানায়নি, তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, উন্নয়নের গতি বিবেচনায় শিগগিরই ঘোষণা আসতে পারে। গবেষণার জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন সংযোজন বিজ্ঞানের জটিল রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সামা টিভি



