১২ বছর বয়সে জ্যাকসন ওসওয়াল্টের ঘরে তৈরি পরমাণু চুল্লি, বিশ্ব রেকর্ড গড়া
আপনি যখন ১২ বছর বয়সী ছিলেন, তখন কী করতেন? হয়তো স্কুল, কোচিং বা খেলাধুলায় সময় কাটাতেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের কিশোর জ্যাকসন ওসওয়াল্ট এই বয়সেই একটি পূর্ণাঙ্গ পরমাণু চুল্লি তৈরি করে ফেলেছেন, যা সাধারণত বড় বিজ্ঞানীদের কাজ বলে বিবেচিত হয়।
ঘরের প্লে-রুম থেকে ল্যাবরেটরি
জ্যাকসন তার বাড়ির প্লে-রুমটিকে একটি উন্নত ল্যাবরেটরিতে রূপান্তরিত করেছে। অনলাইনে পুরোনো যন্ত্রাংশ কিনে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ করে সে একটি ফিউসার যন্ত্র তৈরি করেছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানো সম্ভব, যেখানে দুটি ডিউটেরিয়াম পরমাণুকে জোড়া লাগিয়ে হিলিয়াম তৈরি করা যায়।
ফিউশন বিক্রিয়ার জটিল প্রক্রিয়া
পরমাণু চুল্লি মূলত নিউক্লিয়ার ফিউশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে ভারী পরমাণু ভেঙে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা হয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়ার জন্য সূর্যের মতো উচ্চ তাপ ও চাপের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জ্যাকসন তার ছোট্ট ল্যাবে ৫০ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করেছে, যা বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানো
এর আগে সর্বকনিষ্ঠ ফিউশন রিঅ্যাক্টর নির্মাতার রেকর্ড ছিল ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের। জ্যাকসন ওসওয়াল্ট এই রেকর্ড ভেঙে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে পরমাণু বিষয়ে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত।
জ্যাকসনের এই কীর্তি প্রমাণ করে যে বয়স কোনো বাধা নয় যখন উদ্ভাবনী চিন্তা ও দৃঢ় সংকল্প থাকে। তার এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে শক্তি উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
