১৬ মে আন্তর্জাতিক আলোক দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়। আলোর বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো প্রতিবছর এই দিনটি পালন করে। ১৯৬০ সালের এই দিনে বিজ্ঞানী থিওডোর মাইম্যান প্রথম কার্যকর লেজার আবিষ্কার করেন, যা মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই প্রেক্ষাপটেই ২০১৮ সাল থেকে দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে আয়োজন
বাংলাদেশেও এ দিবস উপলক্ষে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আলোক দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ আয়োজন ‘আলোর অমল কমলখানি’। আয়োজনে ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।
প্রতিপাদ্য ও লক্ষ্য
এবারের আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘লাইট ফর এ সাসটেইনেবল ফিউচার’, যা টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে আলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ ও টেকসই উন্নয়নে এর অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
‘আলোর ঝিলিক’ প্রদর্শনী
১০ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগে নির্বাচিত ৮টি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘আলোর ঝিলিক’ শীর্ষক বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষণ প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ তৈরি হবে এবং আলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে তারা জানবে।
পোস্টার প্রতিযোগিতা
একই সঙ্গে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত হচ্ছে আলোবিষয়ক সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক পোস্টার প্রতিযোগিতা। অনলাইনে প্রাথমিক ধারণা জমা দেওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ঢাকায় চূড়ান্ত আয়োজনে অংশ নিতে পারবে। এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়তা করবে।
সমাপনী অনুষ্ঠান
১৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবে বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞানভিত্তিক বক্তৃতা, আলোর দূষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা। একাদশ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে অংশ নিতে পারবে। এ ছাড়া থাকবে পোস্টার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব এবং পুরস্কার বিতরণী। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



