আপনি যদি বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের ভক্ত হন, তবে নিশ্চয়ই ডিজাস্টার অ্যাপোক্যালিপটিক ও পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক জনরার সিনেমা উপভোগ করেছেন। এসব সিনেমায় প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট মহাপ্রলয়ের আগমনে সভ্যতার শেষ দিনগুলোর কাল্পনিক চিত্রায়ণ দেখানো হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের পুনরুত্থানের গল্পও থাকে।
মহাপ্রলয়ের উৎস
এই সিনেমাগুলোতে মহাপ্রলয়ের উৎস হিসেবে কখনো পরাশক্তি দেশগুলোর পারমাণবিক যুদ্ধ, কখনো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসন, আবার কখনো প্রাণঘাতী জম্বি ভাইরাস বা ভিনগ্রহবাসীদের আক্রমণ দেখানো হয়। তবে বাস্তবে এমন একটি মহাপ্রলয় সৃষ্টিকারী ঘটনা রয়েছে যা যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে: গ্রহাণুর আঘাত।
সিনেমা বনাম বাস্তবতা
সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, গ্রহাণু ধ্বংস করতে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই কৌশল ততটা কার্যকর নয়। নাসার মতো প্রতিষ্ঠান বা জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট হুমকি ঘোষণা করার পর সুপারহিরো নয়, বরং সাধারণ মানুষ—প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, পাইলট—মিলে অভিযান চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণে গ্রহাণু ধ্বংস হলেও প্রিয়জন হারানোর ব্যথা থাকে।
পারমাণবিক অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা
পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে গ্রহাণু ধ্বংস করা সহজ নয়। লোহার তৈরি গ্রহাণুতে বিস্ফোরণে সামান্য উষ্ণতা বৃদ্ধি ছাড়া কোনো প্রভাব পড়ে না। পাথুরে গ্রহাণুর ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। ছোট গ্রহাণু ভস্মীভূত হলেও বড়গুলো ভেঙে টুকরো হতে পারে, যা আরও বিপজ্জনক।
ছিদ্রযুক্ত গ্রহাণুর রহস্য
২৫৩ মাথিল্ডের মতো কিছু গ্রহাণুর ঘনত্ব খুব কম, প্রায় ১.৩৩ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার। এগুলো আসলে ভাসমান পাথরের স্তূপ, যা নিম্ন ঘনত্বের কারণে সহজে ধ্বংস হয় না। সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ড্যান ডুরডা পরীক্ষায় দেখিয়েছেন, ছিদ্রযুক্ত পাথরের নমুনায় গুলি চালালেও তা অটুট থাকে, যেন বালুর বস্তার মতো।
পরীক্ষার ফলাফল
ডুরডা নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের ভার্টিক্যাল গান রেঞ্জ ফ্যাসিলিটিতে নিরেট ও ছিদ্রযুক্ত পাথরের নমুনায় গুলি চালান। নিরেট পাথর ভেঙে টুকরো হলেও ছিদ্রযুক্ত পাথর অটুট থাকে। অর্থাৎ, ছিদ্রযুক্ত গ্রহাণু পারমাণবিক বোমায় ধ্বংস করা কঠিন।
বিস্ফোরণের পরিণতি
এমনকি সফলভাবে গ্রহাণু ধ্বংস করলেও বিপদ কমে না। বরং হাজার হাজার ছোট মিটিওরাইট পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া গ্রহাণুর ক্লোরিন বা ব্রোমিন ওজোন স্তর ধ্বংস করতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধী। শুধু অনন্যোপায় হলেই এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়।
মূলত এসব কারণেই গ্রহাণুর হুমকি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্রের বিকল্প খোঁজা জরুরি। সিনেমার মতো বাস্তবে সহজ কোনো সমাধান নেই।



