কুড়িগ্রাম সদরের নাজিরা টেক্সটাইল মোড় গ্রামে তিন যমজ বোন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান একই দিনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তাদের বাবা তারিকুর রহমান তারিক একজন আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) এবং মা শাহিনা আক্তার গৃহিণী।
একই স্কুলে নয়, তবু লক্ষ্য এক
তিন বোনের মধ্যে তাবিয়া কুড়িগ্রাম সদরের অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা থেকে বৃত্তি পেয়েছে। বর্তমানে তাবিয়া বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে, অপর দুই বোন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। স্কুল আলাদা হলেও তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করে বলে জানায় তাহিয়া।
বাবার ফেসবুক পোস্টে আনন্দ
ফলাফল ঘোষণার পর বাবা তারিকুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার তিন কন্যা ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। মহান আল্লাহ কন্যাদের উত্তম জ্ঞান দান করুন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেয়েদের এই সফলতায় তাদের মায়ের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
তিন বোনের জন্ম ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে। বাবা, চাচা ও প্রয়াত দাদা আইনজীবী হলেও তারা বড় হয়ে ডাক্তার হতে চান। তাহিয়া বলে, ‘আমাদের তিন বোনের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও প্রচেষ্টা এই ফল এনে দিয়েছে। বাবা-মায়ের পরিশ্রম ও যত্ন আমাদের ভীষণ সাহায্য করেছে। আমরা আগামীতে আরও পরিশ্রম করে পড়াশোনা করবো। তিন বোন বড় হয়ে আমার একমাত্র ফুফুর মতো ডাক্তার হতে চাই।’
মায়ের প্রতিক্রিয়া
মা শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দিত। মনে একটু আশঙ্কা ছিল যে তিন মেয়ের রেজাল্ট আলাদা হলে খারাপ লাগতো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিন জনই একই ফল পেয়েছে এবং ভালো করেছে। ওদের জন্য দোয়া চাই। ওদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
জেলায় বৃত্তির সংখ্যা
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল মিলে মোট ৬ হাজার ৬১৭ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৪৭০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৫৭৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।



