প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশের সম্ভাবনা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল সাত কার্যদিবসের মধ্যে

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত হলেও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর ফলের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ফল প্রকাশের আগে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে।

ফল প্রকাশের সময়সীমা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, ফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি এড়াতে তথ্যগুলো একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিলম্বের কারণ

ডিপিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফল জানার উপায়

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

পরীক্ষার বিবরণ

উল্লেখ্য, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃত্তি বিতরণ

এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।

আর্থিক সুবিধা

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।

সুবিধার মেয়াদ

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।