চুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্র হেনস্তার অভিযোগ, তদন্তের ঘোষণা
চুয়েটে ছাত্র হেনস্তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

চুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্র হেনস্তার অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শাখা সভাপতির বিরুদ্ধে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হেনস্তার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ছাত্রদলের ব্যানার টানানো হচ্ছিল। ওই সময় টিউশনি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে চাইলে ছাত্রদলের শাখা সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ তাঁকে জেরা করেন।

একপর্যায়ে ওয়াসিফ রাশেদ শার্টের কলার ধরে টানাটানি শুরু করেন এবং তাঁকে দিয়ে জোরপূর্বক ব্যানার টানানোর চেষ্টা চালান। পরে কয়েকজন সচেতন শিক্ষার্থী হস্তক্ষেপ করে ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে সরিয়ে আনেন। ভুক্তভোগী ছাত্র বলেন, ‘এই ঘটনাটি আমার মধ্যে গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে, যার কারণে আমি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হয়েছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া ও অস্বীকার

অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘শারীরিক লাঞ্ছনার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর ও মিথ্যা। ব্যানার টানানোর সময় সেখানে তাঁর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি তাঁকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা যেকোনো অভিযোগ সত্য নয় এবং তাঁকে বকাঝকা করা হয়নি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ঘোষণা

এ ব্যাপারে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুক্তার হোসাইন জানান, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ

ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এই ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে। তারা দ্রুত ন্যায়বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা চুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া এখন সকলের নজরে।