ডাকসু আলোচনায় শহীদ পরিবারের আকুতি: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কারের দাবি
ডাকসু আলোচনায় শহীদ পরিবারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

ডাকসু আলোচনায় শহীদ পরিবারের আকুতি: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কারের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: শহীদ পরিবারের আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরব উপস্থিতিতে এই সভাটি আয়োজিত হয়। ডাকসু থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের কাছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য জোরালো দাবি জানান। শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সন্তানদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন চেয়ে বলেন, এই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের যেকোনো সদস্যের জন্য সরকারের কাছে একমাত্র আবেদন হলো সঠিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। তাঁদের মতে, এই বাস্তবায়নের মাধ্যমেই শহীদদের স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে এবং দেশে ন্যায্যতা, ইনসাফ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

শহীদ জিসানের মায়ের বক্তব্য: শোকের মধ্যেও দেশের জন্য আহ্বান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জিসানের মা তাঁর মর্মস্পর্শী বক্তব্যে বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে ২০ জুলাই (২০২৪) আন্দোলনে গিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে শহীদ হয়েছে, আর তার স্ত্রীও স্বামীর শোক সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছে। আমি মা হয়ে দুই সন্তানের শোকে ভেঙে পড়েছি, তবু আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমার ছেলে শাহাদাত পেয়েছে। আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, সরকারের কাছে আমার আহ্বান—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করুন, নইলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে। আমার এক ছেলে শহীদ হয়েছে, প্রয়োজন হলে আমিও সেই পথে প্রস্তুত আছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শহীদ হাসানের বাবার অভিযোগ: বিচারহীনতা ও দাবির পুনরাবৃত্তি

জুলাইয়ে শহীদ হাসানের বাবা মনির হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমার ছেলে হাসান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এবং ছয় মাস ১৩ দিন পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার লাশ শনাক্ত হয়। শহীদ সন্তানদের আত্মত্যাগের মূল্য অনুযায়ী বিচার ও সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি, বহু পরিবার আজও তাদের সন্তানকে খুঁজে পায়নি। শহীদদের সম্মানে জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করুন এবং গণভোটের ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। সরকারের কাছে আহ্বান—গড়িমসি না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন; প্রয়োজন হলে আমরা আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত, আরেকটি জুলাইয়ের জন্যও প্রস্তুত আছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডাকসু সহসভাপতির বক্তব্য: বিপ্লবের স্বপ্ন ও বর্তমান বাস্তবতা

সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজ আমরা সেই শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁরা আত্মত্যাগ করে আমাদের নতুন বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। দুই হাজারের বেশি শহীদ হয়েছেন এবং ৪০ হাজারের অধিক আহত হয়েছেন। তাঁদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন, ন্যায়, ইনসাফ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু আমরা দেখছি, বিপ্লব পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও জাতির সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করছে। গণভোট, মানবাধিকার কমিশন, সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রস্তাব এসেছে। ১৬ বছর ধরে তৈরি ফ্যাসিবাদী কাঠামো আবার ফিরে আসার হুমকি দেখা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী ও সঞ্চালনা

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ ইব্রাহীমের মা, শহীদ দ্বীন ইসলামের বাবা, শহীদ রাকিবের ভাই, শহীদ সোহেল রানার ভাই, ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির, মো. বেলাল হোসাইন, রাইসুল ইসলাম, জুলাই বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব সাদিল আহমেদ প্রমুখ। এই আলোচনা সভাটি শহীদ পরিবারের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা এবং দেশের সংস্কার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছে।