ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু: হাজারীবাগের বাসায় বিষপান সন্দেহে তদন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বিষাক্ত পদার্থ সেবনের সন্দেহে এই মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গেছে। মৃত শিক্ষার্থী সাইদুল আমিন সিমান্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সিমান্তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাসার সাথী ও আত্মীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর সিমান্তা তার কক্ষের দরজা ভিতর থেকে তালাবদ্ধ করে নেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো সাড়া না পেয়ে বাসার মালিককে জানানো হয়। পরে দরজা ভেঙে খোলা হলে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিষপানের সন্দেহ
সিমান্তার চাচা রুহুল আমিন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থের তীব্র গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি বিষপান করেছিলেন। তবে তিনি কেন এমন কাজ করলেন, তা এখনো অজানা। রুহুল আমিন বলেন, "আমরা নিশ্চিত নই কেন তিনি বিষপান করলেন। তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।"
ব্যক্তিগত তথ্য
সাইদুল আমিন সিমান্তার বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার বিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম সাদরুল আমিন। সিমান্তা হাজারীবাগের মণীশ্বর রোডে একটি বাসায় সাব-টেন্যান্ট হিসেবে বসবাস করছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে তার পড়াশোনা চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের তদন্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক বলেন, সিমান্তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পোস্টমর্টেমের জন্য রাখা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, "আমরা পরিবার ও সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। বিষপানের সন্দেহ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পরই নেওয়া হবে।"
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, "সিমান্তা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য একটি বড় ক্ষতি। আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করব।"
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেবা এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।



