বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড়ে সহায়তা পেয়ে হাসি ফুটেছে ওমর ওসমানের মুখে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড়ে সহায়তা পেয়ে হাসি ফুটেছে ওমর ওসমানের মুখে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড়ে সহায়তা পেয়ে হাসি ফুটেছে ওমর ওসমানের মুখে

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচের চিন্তা দূর হওয়ায় হাসি ফুটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার তরুণ ওমর ওসমানের মুখে। প্রথম আলোতে তাঁর সংকটের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশ থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাঁর শিক্ষাজীবনকে নতুন গতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কুমারখালী উপজেলার একটি পার্কে আনন্দে উদ্ভাসিত ওমর বলেন, ‘প্রথম আলোতে আমাকে নিয়ে নিউজ করেছে। এরপর অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। আমার স্বপ্নপূরণে প্রথম আলো এগিয়ে এসেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।’

অর্থাভাবে শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন ওমর

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের গৃহিণী ফাতেমা খাতুন ও মৃত খবির উদ্দিন দম্পতির বড় ছেলে ওমর ওসমান। তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা থমকে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ভর্তির টাকার জন্য দিনমজুরির কাজ শুরু করেন ওমর। এ নিয়ে বুধবার (১ মার্চ) সকালে প্রথম আলো অনলাইনে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে শ্রমিকের কাজ করছেন ওমর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্বপ্ন সুপার শপ ও আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের সহায়তা

প্রথম আলোর খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সকালে স্বপ্ন সুপার শপ পরিবারের পক্ষ থেকে ওমরের হাতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন, ছোট ভাই রাফিউল, স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন। রাসেল আল মামুন বলেন, ‘প্রথম আলোতে সংবাদ দেখে ঢাকা থেকে জানানো হয় সহযোগিতার বিষয়ে। স্বপ্ন পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে ওমরকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি ও পোশাক প্রদান করেছে কুমারখালীর আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন। দুপুরে আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষা পল্লী পার্কের একটি সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ওমরের প্রথম মাসের (এপ্রিল) নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনটির সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘প্রথম আলো অনলাইনে নিউজ দেখার পর ওমরকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওমর যত দিন পর্যন্ত পড়াশোনা করবেন তাঁকে তত দিন পর্যন্ত এই টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাঁকে দুই সেট পোশাক ও তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া হবে।’

দেশ-বিদেশ থেকে আর্থিক সহায়তা

এ ছাড়া দেশ-বিদেশ থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষ প্রায় ২১ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। আবেগপ্রবণ হয়ে ওমরের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘প্রথম আলোতে নিউজ হয়চে। এরপর মুখ তলি তাকাইচে। এহন আর টেনশন মেনশন নাই। সংসারে ইনকামের লোক নাই। কাপড়চোপড়, বই-খাতা, খাতি দিতি পারিনে। কত করে কয়ছি তুই পড়িসনে। ও কয় তাউ পড়বই। এসব কথা খবরে উঠে গেলি অনেকেই ফোন দিচ্ছে। এহন খুব খুশি।’

ওমর ওসমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হতে যাব। ভবিষ্যতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব।’ তাঁর এই সাফল্য ও সহায়তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।