জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে আহত দুই শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ
জবিতে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে আহত দুই শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা উদ্বেগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে আহত দুই শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ক্লাস চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

নিরাপত্তার শঙ্কায় গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুরু করেছেন। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।” আরেক শিক্ষার্থী নয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বুধবার (১ এপ্রিল) আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে, অথচ প্রশাসন এখনো কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ক্লাস-পরীক্ষাও চালু রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে পরীক্ষা দিতে শঙ্কা থেকেই হেলমেট পরে আসছি।”

শিক্ষার্থী সংসদের তীব্র সমালোচনা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকৌশলীর বক্তব্য ও সংস্কার পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি, কিন্তু এখন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হেলমেট পরার মতো চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নির্দেশ করে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।