জাবি শিক্ষার্থী শারমিনের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা এই মৌন মিছিল বের করেন।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
নিহতের মা ও জাকসুর নেতার বক্তব্য
নিহত শারমিন জাহানের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি আমার মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি, কিন্তু কিভাবে কী হলো সেটা আমি জানি না। আমার মেয়েটাকে যে মারল বা যারা মারল এদের শাস্তি আর সুষ্ঠু বিচার যেন পাই এটাই আমার চাওয়া।"
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান তার ভাড়াটিয়া বাসায় স্বামী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী ফাহিম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন, জবানবন্দি বারবার পরিবর্তন করছেন। আমরা এ মামলায় খুবই তীক্ষ দৃষ্টি রাখছি।"
তিনি আরও বলেন, "মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট বলে দিতে চাই, বাহ্যিক কোনো হস্তক্ষেপ এ মামলাকে কোনোভাবেই যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে আমরা সেই বার্তা এখান থেকে দিতে চাই এবং সেই জায়গায় সচেষ্ট থাকব। মামলার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যাব।"
বিভাগীয় সভাপতির আহ্বান
লোক-প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হরে কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, "দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সঠিক কারণ কী সেটা আমরা জানি না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা চাই না। বিচারহীনতা চলতে থাকলে অপরাধপ্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং আমাদের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমাদের পক্ষ থেকে বিনীত নিবেদন, আপনারা আমাদের সহোযোগিতা করুন, অপরাধীর দ্রুতবিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।"
এই মানববন্ধন ও মৌন মিছিলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



