নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের পুরস্কৃত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য ছড়িয়ে দেওয়া। ৩১ মার্চ নোয়াখালীর সোনাপুর শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
উদ্যোগের পেছনের উদ্দেশ্য
নোবিপ্রবি বন্ধুসভার উপদেষ্টা সৈয়দ মো. সিয়াম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানানো এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক হবে।
অন্য উপদেষ্টা জাহিদ হাসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।’ তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীরা
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা। সোনাপুর শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। কুইজে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের তালিকা নিম্নরূপ:
- জান্নাত আক্তার
- আনোয়ারা হোসেন
- জোবায়েদ হোসেন
- সুমাইয়া আক্তার
- মিরাজ আহমেদ
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা জাহিদ হাসান এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বন্ধুসভার নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি
নোবিপ্রবি বন্ধুসভার সভাপতি সৌরভ খান বলেন, ‘নোবিপ্রবি বন্ধুসভা সব সময় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাবে, যা তরুণসমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে সাহায্য করবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে বন্ধুসভা সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইতু রাণী কুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জুঁই চৌধুরীসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপ্তি
পুরস্কার বিতরণের পর, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনটি আনন্দঘন পরিবেশে সমাপ্ত হয়। এই সাংস্কৃতিক পর্বটি অনুষ্ঠানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ একটি শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে যুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



