খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুতে বিক্ষোভ ও দাবি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা মৌমিতার মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌমিতার মৃত্যুর তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা।
- দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।
- খুলনা শহরে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড দ্রুত সংস্কার করা।
- ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও গল্লামারী সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের সমর্থন
মানববন্ধন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রেজাউল করিম, ট্রেজারার মো. নূরুন্নবী, আইন স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মাহমুদুল হাসান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. নাজমুস সাদাত, আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান পুনম চক্রবর্তী ও সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। উপাচার্য রেজাউল করিম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে সন্তানের মতো। কোনো শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় নিহত হলে, তা শিক্ষক–সহপাঠী সবার জন্য গভীর বেদনার।" তিনি তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্পিড ব্রেকার মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। গল্লামারী সেতুর নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে, তবে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি অংশের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। হল রোডের বেহাল অবস্থার বিষয়ে কেডিএ ও জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী ও পটভূমি
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন আশরাফুল আলম, শিক্ষা ডিসিপ্লিনের প্রধান আব্দুল জব্বার, খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট খসরুল আলম, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা হলের প্রভোস্ট শরিফ মোহাম্মাদ খান প্রমুখ অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে রেজোয়ানুল হক (রাদ), তৌকির জোয়ার্দার, মেহরাব হোসেন রাকিব, মারুফ ও মুরছালীন বক্তব্য দেন। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মাহবুবুর রহমান।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ডুমুরিয়ার চুকনগরে মৌমিতা হালদারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরের জেলা পরিষদ ভবনের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে তিনি মারা যান। তিনি আইন ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। এই দুর্ঘটনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যা আজকের মানববন্ধনে প্রকাশ পেয়েছে।



