ঢাবির ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান
ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান

ঢাবির ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কাজে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) অনুদান কর্মসূচি থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ-পুনরুদ্ধারের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদটি ঘুরে দেখেন এবং এর সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হন।

মন্ত্রীর বক্তব্য: একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সপ্তদশ শতাব্দীর মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।" তিনি এএফসিপির মাধ্যমে মার্কিন সরকারের সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর মোগল স্থাপত্যশৈলীসহ নিদর্শনটি এর ঐতিহাসিক মর্যাদা ফিরে পাবে এবং দেশের সমৃদ্ধ অতীতের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপাচার্যের দৃষ্টিভঙ্গি: জ্ঞান ও প্রেরণার কেন্দ্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "এই প্রকল্প একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি শুধু একটি পুনরুদ্ধারকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য: সংস্কৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই দশকে এএফসিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে তারা গর্বিত। এই সংস্কারকাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার দেবে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের বিস্তারিত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু সুন্দর স্থাপত্য পুনরুদ্ধারই নয়, বাংলাদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ডিজিটাল আর্কাইভ বিশ্বের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা গবেষণার সুযোগ বাড়াবে এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে। তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও এই প্রকল্প কাজ করবে।

মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ-পুনরুদ্ধারের কাজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে এএফসিপি তহবিলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।