ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ গবেষক সম্মেলন শুরু, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ
ঢাবিতে তরুণ গবেষক সম্মেলন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ গবেষক সম্মেলনের উদ্বোধন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর জোর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জাপানস সফট ডিপ্লোমেসি ইন সাউথ এশিয়া: চেঞ্জ অ্যান্ড কন্টিনিউইটি' শীর্ষক দুই দিনব্যাপী 'ইয়ং স্কলার' বা তরুণ গবেষক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়।

সম্মাননা স্মারক বিনিময় ও প্রধান অতিথির বক্তব্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। রেহান আসিফ আসাদ তার বক্তব্যে জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও গভীর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, '১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পরপরই জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।' এ সময় তিনি জাপানি জনগণের কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও সততার প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের এসব গুণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

উপাচার্যের বক্তব্য ও সম্মেলনের গুরুত্ব

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, 'এই সম্মেলন তরুণ গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।' তিনি আরও যোগ করেন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা ও বিনিয়োগ নিয়ে গভীর গবেষণা জরুরি। জাপান বাংলাদেশের প্রধান দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও জাপান দূতাবাসের মন্তব্য

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জাপান, চীন, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকেরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ১০টি অধিবেশনে মোট ১৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার তাকাহাশি নাওকি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, সংস্কৃতি ও একাডেমিক বিনিময়ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সফট ডিপ্লোমেসি সংস্কৃতি, ভাষা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক আtrust ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক বলেও উল্লেখ করেন।

আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ

জাপানিজ স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন সাউথ এশিয়া এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবং এতে অর্থায়ন করেছে জাপান ফাউন্ডেশন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তৈয়বুর রহমান
  • জাপান ফাউন্ডেশন নয়াদিল্লির মহাপরিচালক কোজি সাতো
  • টোকিওর জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকাও কোইকে
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম
  • জাপানিজ স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন সাউথ এশিয়ার সভাপতি শ্রাবণী রায় চৌধুরী
  • সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন

এই সম্মেলন তরুণ গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।