ঢাবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, রাজবন্দি মুক্তি ও পুলিশ হত্যার বিচারের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘রাজবন্দিদের মুক্তি’ এবং ‘পুলিশ হত্যার বিচার’ দাবিতে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণআন্দোলনের পর ক্যাম্পাসে এটিই তাদের প্রথম প্রকাশ্য মিছিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঈদের দিন ভোরে মিছিলের ঘটনা
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন, রবিবার (২২ মার্চ) ভোরবেলায় এই ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এই মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “রাজবন্দিদের মুক্তি, পুলিশ হত্যার বিচার ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার দিকে ১০-১৫ জনের একটি দল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে নেমে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে মিনিটখানেক অবস্থান করে দ্রুত সটকে পড়ে। তিনি বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখেছি, তবে সেখানে পরিচিত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কর্মচারী বা তাদের সন্তানরা এর সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির ক্ষোভ
এদিকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘অপতৎপরতা’ এবং পুলিশের ‘নির্লিপ্ততা’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল রবিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনা শেষে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষার্থীরা যখন ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে, সেই সুযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ব্যানার নিয়ে মিছিল করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। মিছিলের ৮-৯ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ-প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ কয়েকজনকে শনাক্ত করার দাবি করেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের পক্ষ থেকে আপডেট জানানোর কথা রয়েছে।
পটভূমি ও নিষেধাজ্ঞা
উল্লেখ্য, গত বছর ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংগঠনটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম প্রশাসনিক নজরদারিতে এসেছে।
এই ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



