ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা
মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করেছে। গত শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দায়ের করা এই মামলায় ইহুদি ও ইসরাইলি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাতিগত ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগটি ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইনের টাইটেল ৬ ধারা লঙ্ঘনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার মূল অভিযোগসমূহ
মামলার দলিলে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের আড়ালে কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বহিরাগতরা ইহুদি ও ইসরাইলি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করেছে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরাইলি বা জায়নিস্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিক কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন দখল ও বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি বলেন, "অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো হার্ভার্ডেও ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়ে উঠতে দেওয়া হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করতে চাই।"
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সেক্রেটারি রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, "প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভয় ও বৈষম্য ছাড়া শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। যারা করদাতাদের অর্থ গ্রহণ করে, তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্বও নিতে হবে।"
অর্থনৈতিক প্রভাব ও আইনি দাবি
মামলায় আরও বলা হয়েছে, হার্ভার্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা থেকে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান পাচ্ছে। আদালতের কাছে এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে টাইটেল ৬ ধারা মেনে চলতে বাধ্য করা এবং প্রয়োজনে করদাতাদের অর্থ ফেরত আদায়ের আবেদন জানানো হয়েছে।
এই মামলাটি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে এই মামলা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।



