জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হত্যা: স্বামী ফাহিম কারাগারে, আদালতে রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ
জাবি ছাত্রী হত্যা: স্বামী কারাগারে, রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হত্যা মামলায় স্বামী কারাগারে

ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের মর্মান্তিক ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. শহিদুজ্জামান।

আদালতে রিমান্ড শুনানির তারিখ নির্ধারণ

এর আগে, ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা সিদ্দিকার আদালতে হাজির করা হয় আসামি ফাহিম আল হাসানকে। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান জানান, 'বিজ্ঞ আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল, তবে আগামী ২৪ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আসামিকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'

মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত শারমিন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শারমিন ও ফাহিমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ সৃষ্টি হয়, যা শারমিন তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রবিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম ফোনে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমিন গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে বাসায় আসতে বলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে চাচা শারমিনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন ও হত্যার অভিযোগ

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শারমিনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখা গেছে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে যে, শারমিনের স্বামী ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে শারমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন বলেন, 'ঘটনার পরপরই নিহত শিক্ষার্থী শারমিন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে রবিবার দিবাগত রাতে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।'

নিহত ও আসামির পারিবারিক পরিচয়

নিহত শারমিন জাহান খাদিজা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। অন্যদিকে, ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর থানার খুইরুল গ্রামের হানিফ সরকারের ছেলে। এই ঘটনা শিক্ষার্থী সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।