ছাত্রলীগ সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সদস্য সন্দেহে মারধর করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে আহত রাহিদ খান পাভেলের মা পারভীন আক্তার শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামানের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
অভিযোগ অনুযায়ী, আহত রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রোববার রাত ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন পাভেল। পথে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার পথরোধ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম শুভ, সাকিব, ফোরকান উদ্দীন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল ও সঞ্জীব হোসেনসহ আরও ১০–১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশি অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান।
হামলার ভয়াবহতা
অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল্লাহ লোহার রড দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে হাসিব-আল-ইসলাম পেছন থেকে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তা তার বাম কানে লাগে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া অন্যরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাভেল সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আবারও ধাওয়া করে এসএম হলের সামনে ফেলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও এটিএম কার্ড নিয়ে যান।
পরবর্তী ঘটনা ও উদ্ধার
পরবর্তীতে এক রিকশাচালক আহত অবস্থায় পাভেলকে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে এলে সেখানে আবারও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
