কুয়েটে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বাসভবনে তালা দেওয়ার চেষ্টা
কুয়েটে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, তালা দেওয়ার চেষ্টা

কুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বাসভবনে তালা দেওয়ার চেষ্টা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন একদল শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার রাতে কুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবনের ফটকে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়ার আহ্বান জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয়।

ব্যানার টানিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ঘটনার আগে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে একটি ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলমগীরের সহযোগী আখ্যা দিয়ে বর্তমান উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র জানায়, কুয়েটে ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি নেই, তবে ছাত্রদল বা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ব্যানার টানানোর কাজটি করেছেন।

উপাচার্যের বক্তব্য ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালী গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর বাসভবনের সামনে এসে প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ক্যাম্পাস ছাড়ার আহ্বান জানান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী হ্যান্ডমাইকে উপাচার্যকে ডাকছেন এবং তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন। এরপর তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।

পটভূমি ও সাম্প্রতিক ঘটনা

গত বছরের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনার জের ধরে আন্দোলনের মুখে ২৬ এপ্রিল উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে অপসারণ করে সরকার। ১ মে চুয়েটের অধ্যাপক হজরত আলীকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে ২২ মে তিনি পদত্যাগ করেন। ১০ জুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২৪ জুলাই নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গতকাল ছড়িয়ে পড়ে যে উপাচার্যের ওপর ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা করেছেন, তবে পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এই ঘটনা কুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং শিক্ষার্থী-প্রশাসন সম্পর্কে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।