নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন গ্র্যাজুয়েট কর্ম ভিসা চালু
নিউজিল্যান্ড সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে একটি নতুন স্বল্পমেয়াদি গ্র্যাজুয়েট কর্ম ভিসা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। গত ১২ মার্চ এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষাপরবর্তী ভিসার যোগ্যতাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা শেষে দ্রুত কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করা।
নতুন গ্র্যাজুয়েট কর্ম ভিসার বিস্তারিত
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে চালু হতে যাওয়া নতুন ভিসার আওতায় যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ছয় মাসের ওপেন ওয়ার্ক রাইটস পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা চাকরি খুঁজে নিতে পারবেন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে নিয়োগকর্তা-স্পন্সরড ওয়ার্ক ভিসায় যেতে পারবেন। এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের New Zealand Qualifications and Credentials Framework (NZQCF)-এর লেভেল ৫ থেকে ৭-এর কোনো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
নতুন স্বল্পমেয়াদি গ্র্যাজুয়েট ভিসার জন্য আবেদনের যোগ্যতা নিম্নরূপ:
- অন্তত ২৪ সপ্তাহ পূর্ণকালীনভাবে নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করতে হবে।
- ইংরেজি ভাষা, ফাউন্ডেশন বা ব্রিজিং প্রোগ্রাম গ্রহণযোগ্য হবে না।
- কমপক্ষে ৫,০০০ নিউজিল্যান্ড ডলার থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে।
- স্টুডেন্ট ভিসা শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
এই ভিসাধারীরা চাকরির চুক্তি বা সেবাচুক্তির ভিত্তিতে কাজ করতে পারবেন। তবে তারা নিজস্ব ব্যবসা চালু করতে পারবেন না এবং সঙ্গী বা সন্তানদের জন্য কাজ বা স্টাডি ভিসা স্পন্সর করার সুযোগও পাবেন না।
পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসায় পরিবর্তন
একই সঙ্গে বিদ্যমান পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ থেকে যারা NZQCF লেভেল ৭-এর গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করবেন, তারাও এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন—যদি তাদের একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকে, যা নিউজিল্যান্ড বা বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত হতে পারে। আবেদনকারীদের ডিপ্লোমা কোর্সের পুরো সময় নিউজিল্যান্ডে সম্পন্ন করতে হবে এবং ব্যাচেলর ডিগ্রির সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে আলাদা আন্তর্জাতিক যোগ্যতা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক না হলেও প্রয়োজন হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে পারবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকালে শুধুমাত্র একবারই শিক্ষাপরবর্তী ভিসা পাবেন, এমনকি পরে একই বা উচ্চতর স্তরের আরেকটি ডিগ্রি সম্পন্ন করলেও। তবে এই ভিসাধারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তাদের সঙ্গী ও নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য ভিজিটর, ওয়ার্ক বা স্টুডেন্ট ভিসা স্পন্সর করতে পারবেন।
নিউজিল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুযোগ
নিউজিল্যান্ড এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠছে। দেশটিতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান। তবে নির্ধারিত ছুটির সময়—যেমন মধ্যবর্ষের ছুটি এবং বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে তারা পূর্ণকালীন কাজ করার সুযোগ পান।
দেশটিতে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিতে পারবেন। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা স্পনসর করতে পারেন, যেমন:
- ভিজিটর ভিসা: শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গী ও সন্তানের জন্য ভিজিটর ভিসা স্পনসর করতে পারবেন, তবে সব ক্ষেত্রে কাজের বা পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যাবে না। এটি নির্ভর করবে শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন ও যোগ্যতার ওপর।
- কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ: উচ্চতর পর্যায়ের কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গীর জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করতে পারেন। এ সুবিধা পাবেন যেসব শিক্ষার্থী লেভেল ৯ বা ১০ (মাস্টার্স বা পিএইচডি) কোর্সে অধ্যয়ন করছেন; লেভেল ৭ বা ৮ কোর্সে আছেন, যা দেশটির ‘গ্রিন লিস্ট’ভুক্ত পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট; বা যেসব কোর্স শেষ করে পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যায়।
- সন্তানের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা: সন্তানের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা স্পনসর করার সুযোগ সীমিত। এ সুবিধা পাওয়া যাবে যদি শিক্ষার্থী পিএইচডি প্রোগ্রামে থাকেন; অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেন; সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্কলারশিপে অধ্যয়ন করেন; বা যদি শিক্ষার্থী সরাসরি স্পনসর করতে না পারেন, তবে তার সঙ্গী ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার পর সেই দায়িত্ব নিতে পারবেন।
- অভিভাবকদের জন্য গার্ডিয়ান ভিজিটর ভিসা: যেসব শিশু নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করছে, তাদের দেখাশোনার জন্য বাবা-মা ‘গার্ডিয়ান ভিজিটর ভিসা’ নিয়ে সেখানে থাকতে পারেন।
সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবশ্যই সম্পর্কের প্রমাণ (যেমন বৈবাহিক সম্পর্ক বা সন্তানের নির্ভরশীলতা) উপস্থাপন করতে হবে এবং নির্ধারিত ভিসা শর্ত পূরণ করতে হবে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার করবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।



