নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া নামের আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কাউছার মিয়া (৩৫) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউছার মিয়াকে টেঁটাবিদ্ধ করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পানির স্রোতে ভেসে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি রায়পুরা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রায়পুরা থানার মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ‘জবা’ ও ‘মিস্টার গ্রুপের’ অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
তারা আরও জানান, এই বিরোধে মিস্টার গ্রুপের মামুন নামের এক প্রবাসী হত্যার পর দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার ও তার সহযোগী আলাল মুন্সিসহ তাদের গ্রুপের লোকজন এলাকা ছাড়েন। পরে দফায় দফায় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে জবা গ্রুপ। মঙ্গলবার ভোরে আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন।
এ সময় প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এতে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।



