বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার বারদুয়ারী হাটে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মাণ করা ছয়টি পাকা দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া এই অভিযানে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ইটের তৈরি দোকানঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব ও সময়কাল
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান। অভিযান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের একটি ফাঁকা জায়গায় প্রায় ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থজুড়ে ইটের দেয়াল তুলে ছয়টি দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছিল।
নির্মাণকাজে কাউকে না পাওয়া
গতকাল বিকেলে অভিযান চলাকালে নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। অভিযান টের পেয়ে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা সরে পড়েন। বারদুয়ারী হাটের দুই ব্যবসায়ী বলেন, এই হাটে আগে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ছোট দোকান তুললে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা ভেঙে দিত। অথচ স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাটের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করলেও দীর্ঘ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আগের ঘটনা ও আইনি ব্যবস্থা
জানা যায়, নির্মাণাধীন ঘরগুলোর পাশেই প্রায় তিন মাস আগে মো. আজাহার নামের এক ব্যক্তি একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন। তাঁর ছেলে আকাশ দাবি করেছিলেন, সরকারিভাবে লিজ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে লিজের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অভিযান শেষে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পৌরসভার অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় নির্মিত ওই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বারদুয়ারী হাটের সরকারি এই সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সরকারি এই হাটের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হলে একইভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রথম আলোর সংবাদ প্রকাশের পর পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, হাটের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ২৩ জুন প্রথম আলো পত্রিকায় ‘শেরপুরের হাটে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গতকাল রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ওই দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায়।



