ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজধানীর ২৯টি খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ডিএনসিসির পরিকল্পনা
ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে রাজধানীর সব খাল দখলমুক্ত করতে হবে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি।'
ইতোমধ্যে ২৯টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
দখলমুক্ত খালের তালিকা
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, দখলমুক্ত করার তালিকায় থাকা খালগুলোর মধ্যে রয়েছে বেগুনবাড়ি খাল, বনানী খাল, তেজগাঁও খাল, মগবাজার খাল, হাতিরঝিল খাল, রামপুরা খাল, বাড্ডা খাল, উত্তরখান খাল, দক্ষিণখান খাল, খিলক্ষেত খাল, নিকুঞ্জ খাল, বসুন্ধরা খাল, কুর্মিটোলা খাল, বিমানবন্দর খাল, ক্যান্টনমেন্ট খাল, মিরপুর খাল, পল্লবী খাল, শেওড়াপাড়া খাল, আদাবর খাল, মোহাম্মদপুর খাল, লালমাটিয়া খাল, ধানমন্ডি খাল, কলাবাগান খাল, শাহবাগ খাল, পলাশী খাল, নিউমার্কেট খাল, হাজারীবাগ খাল, কামরাঙ্গীরচর খাল, এবং সিদ্ধেশ্বরী খাল।
পরিবেশ ও নগরজীবনে প্রভাব
খাল দখলমুক্ত করলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি হবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি। মেয়র বলেন, 'খাল দখলমুক্ত হলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমবে এবং নগরীর সৌন্দর্য বাড়বে।'
এছাড়া খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কার করা হবে। ডিএনসিসি ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করেছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
খাল দখলমুক্ত করায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ডিএনসিসি বলছে, যারা দখল করে রেখেছেন তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে। মেয়র বলেন, 'আমরা কাউকে হঠাৎ করে উচ্ছেদ করছি না। তাদের আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।'
ডিএনসিসি জানিয়েছে, দখলমুক্ত খালের পাশে ফুটপাত ও বাগান তৈরি করা হবে, যা নগরবাসীর জন্য বিনোদনের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
সরকারি সহায়তা
প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের জন্য ডিএনসিসিকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়র বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব ধরনের সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা দ্রুততম সময়ে সব খাল দখলমুক্ত করব।'



