দীর্ঘদিনের দাবি, আন্দোলন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত দেশের ৫০১তম ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গঠন ও সদর দপ্তর
গেজেটে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল—এই ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪টি সরকারি দপ্তর ও ২৩৮টি পদ
নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, থানা (পুলিশ স্টেশন), উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, শিক্ষা, সমাজসেবা, প্রকৌশল, নির্বাচন, খাদ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, সমবায়, পরিসংখ্যানসহ মোট ২৪টি সরকারি দপ্তর স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব দপ্তরে ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৯৮ জন কর্মচারীসহ মোট ২৩৮টি পদ থাকবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও জনদাবির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে গেজেটে সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের বাসিন্দা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন শুরু থেকেই আরও কেন্দ্রীয় ও যোগাযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন। গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দা ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন বলেন, নতুন উপজেলা সদর যে মৌজায় গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে সেই মৌজায় হলে উত্তরের মানুষের কোনো কাজে আসবে না। কারণ এই স্থান থেকে উত্তরের ইউনিয়ন বাগানবাজারের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। দক্ষিণে সুয়াবিল ইউনিয়নের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। পূর্বের ফটিকছড়ি উপজেলার দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।
ভূজপুরের বাসিন্দা কুতুবউদ্দিন বলেন, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বীকৃতি মিললেও এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, জনবল নিয়োগ এবং সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম চালু করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।



