সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ১১ জন আহত, উত্তেজনা অব্যাহত
হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ১১ জন আহত

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ১১ জন আহত

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের একটি ফসল রক্ষা বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় এ সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পানিনিষ্কাশন নিয়ে মতবিরোধের জের

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পাগনার হাওরের পানিনিষ্কাশন নিয়ে কিছুদিন ধরে কাশিপুর ও শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে কাশিপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আমির আলীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল শান্তিপুর গ্রামের পাশে অবস্থিত কানাইখালী নদীর বাঁধটি কাটতে যায়।

তখন শান্তিপুর গ্রামের লোকজন বাঁধটি কাটতে বাধা দেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহত ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন সামিরুল ইসলাম, রাফাত হোসেন, হানিফ মিয়া, কিসমত আলী, বাকী বিল্লাহ, নূর মোহাম্মদ, মাসুদ মিয়া, সানেয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন, আবুল হোসেন ও আবুল কালাম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রশাসনের ভূমিকা

কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী দাবি করেন, টানা বৃষ্টিপাতে হাওরে রোপণ করা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শান্তিপুর গ্রামের কানাইখালী নদীতে একটি বাঁধ থাকায় পানিনিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পানিনিষ্কাশনের জন্য তাঁরা বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং পরবর্তীতে হামলা চালানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, পাঠামারা খালের বাঁধ না কেটে শুধু কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা হলে শান্তিপুর গ্রামের ফসলি জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। তিনি জানান, ইউএনও উভয় বাঁধ কাটার নির্দেশ দিলেও একটি বাঁধ রেখে অন্যটি কাটতে আসায় তাঁরা আপত্তি জানান এবং এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করেন।

জামালগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে থানায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাঠামারা খাল ও কানাইখালী নদীর বাঁধ কেটে পানিনিষ্কাশনের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উভয় বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, পাঠামারা খালের বাঁধ আগে না কেটে কানাইখালীর বাঁধ কাটার জন্য এক পক্ষ গেলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়, যা সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসন এখনো উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।