নেত্রকোনায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ভাতার টাকা প্রতিবেশীর নম্বরে হাতানোর অভিযোগ
নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ভাতার টাকা প্রতিবেশীর মুঠোফোন নম্বরে হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল সোমবার ইউএনও আমেনা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিচয়
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সুমাইয়া ফারহানা (১৭) বড়তলি বানিহারি ইউনিয়নের শুকদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং তাঁর বাবার নাম খোকন মিয়া।
অভিযোগের বিবরণ
খোকন মিয়া অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য মাকসুদা আক্তার তাঁর মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। আবেদনে খোকন মিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘদিন ভাতা না পেয়ে তিনি সম্প্রতি সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁর মেয়ের ভাতা এক বছর আগে চালু হয়েছে, কিন্তু টাকা অন্য একটি মুঠোফোন নম্বরে যাচ্ছে। পরে দেখা যায়, সেই নম্বরটি পাশের বাড়ির সাইদুর মিয়ার।
খোকন মিয়া বলেন, 'সাইদুর মিয়াকে বললে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাই বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছি।'
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুর মিয়া বলেন, তিনি ভেবেছিলেন এটি তাঁর নিজের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাবের বিবরণী তুলতে কয়েক দিন সময় লাগবে।
অন্যদিকে, মাকসুদা আক্তার টাকার বিনিময়ে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তার সময় এসব জটিলতা তৈরি হয়েছে।'
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ইউএনও আমেনা খাতুন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'এই ধরনের অনিয়মের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এই ঘটনা প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
