নোয়াখালীতে ভিজিএফ চাল উধাও, উপকারভোগীদের ক্ষোভে উত্তেজনা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ২৭২ বস্তা চালের মধ্যে ২১ বস্তা রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় উপকারভোগীরা চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
চাল বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভ
রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ১৩৬০ জন উপকারভোগীর জন্য ১০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ ছিল, যাদের স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। তবে, স্লিপধারী ১২৫৬ জনকে চাল দেওয়া হলেও বাকি ১০৪ জনকে চাল দেওয়া হয়নি। তারা সকাল থেকে প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু দুপুরে জানানো হয় যে চাল শেষ হয়ে গেছে এবং গুদাম ঘর থেকে ২১ বস্তা চাল উধাও হয়ে গেছে।
এতে উপকারভোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষ অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় চাল কীভাবে শেষ হলো? পরে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলরা তালা বন্ধ করে চলে যান, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
উপকারভোগীদের বক্তব্য ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কুলসুমের নেছা নামের এক উপকারভোগী বলেন, "আমাকে স্লিপ দিয়েছে। সকাল থেকে বাচ্চাকে নিয়ে অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখন বলতেছে চাল নেই, দিতে পারবে না। তাহলে সরকারের দেওয়া চাল কোথায় গেলো?" তার মতো অন্যান্য উপকারভোগীরাও একই ধরনের হতাশা ও রাগ প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গাউছাল আবরার উদ্দিন বলেন, "কী হয়েছে বুঝে উঠতে পারছি না। চাল ইউনিয়ন পরিষদেই ছিল। কিন্তু কমে গেল কীভাবে সেটি বুঝতে পারছি না। বাজার থেকে কিনে হলেও আমি আগামীকাল বাকিদের চালের ব্যবস্থা করবো।"
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবদুল মান্নান জানান, "আমি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বুঝিয়ে দিয়েছি সচিবের কাছে। ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেবো।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনিয়মের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিজিএফ চাল বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, দুর্বল তদারকি ও নজরদারির কারণে এমন অনিয়ম ঘটছে, যা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, চাল উধাও হওয়ার পেছনে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভূমিকা থাকতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নে একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে, যা সরকারি সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সমাধান কামনা করছেন স্থানীয়রা।
