সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরে হামলা: জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, জমি দখলের চেষ্টা

সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরে হামলা: জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের বাড়িতে এ হামলা সংঘটিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের ছেলে আবদুল গফফার জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তারা ইসলামপুর গ্রামের কিছু সরকারি জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গা তাঁর বাবা ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা ওই জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তারা আবদুল গফফারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেন।

হামলার বিবরণ ও ভিডিও প্রমাণ

আবদুল গফফার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজন আমাদের জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে থানায় আমি তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁরা আমাদের ঘরটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং আসবাবপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছেন। হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও রয়েছে আমাদের কাছে। নিজাম উদ্দিন হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি।’

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক হাদী আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।’

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।