মধুখালীতে একই দোকানে জরিমানা ও ইফতারের দই কেনা নিয়ে সমালোচনা
জরিমানা করা দোকান থেকেই ইফতারের দই কেনা, সমালোচনা

মধুখালীতে একই দোকানে জরিমানা ও ইফতারের দই কেনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলা প্রশাসন একই দিনে প্রথমে একটি মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে, পরে আবার সেই দোকান থেকেই ইফতার মাহফিলের জন্য দই কেনে। এই দ্বৈত নীতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভিযানে জরিমানা ও ইফতারে দই কেনার ঘটনা

মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে অবস্থিত রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারে দুপুরের দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, মিষ্টির পুরনো সিরা এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর পাওয়ার অভিযোগে দোকানটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের জন্য ওই দোকান থেকেই ১৩৫ কাপ দই কেনা হয়। ইফতারের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে সেই দইও পরিবেশন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দোকান মালিক ও প্রশাসনের বক্তব্য

রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুকুমার ঘোষ বলেন, "দুপুরের দিকে কারখানায় নতুন তেলের ব্যারেল ছিল, যেটি তখনও খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে ব্যারেলের মুখ নিজেরাই খুলে বলেন তেলে ময়লা আছে। এছাড়া চিনির সিরা কয়েকদিন আগের বলে অভিযোগ করা হয়। আমি তখন কারখানায় ছিলাম না। পরে বিকালে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য আমাদের দোকান থেকেই ১৩৫ কাপ দই কেনা হয়েছে এবং তারা দামও পরিশোধ করেছেন।"

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান অভিযানের বিষয়ে বলেন, "রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় অভিযান চালিয়ে তেলে ময়লা ও পুরনো সিরা পাওয়া যায়, পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন ছিল। এসব কারণে ভোক্তা অধিকার আইনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইফতারের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপার।"

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, "একটি দোকানের সবকিছু খারাপ হয় না। যেসব বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেসব কারণে জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হতো, তা করা হয়নি।"

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্লা এই ঘটনায় মন্তব্য করেন, "দুপুরে জরিমানা করে বিকেলে একই দোকান থেকে দই নেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সাংঘর্ষিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।"

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে দ্বৈত নীতি ও স্ববিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি দোকানটি সত্যিই অস্বাস্থ্যকর হয়, তবে কেন উপজেলা প্রশাসন সেখান থেকে ইফতারের খাবার কিনবে? এই ঘটনা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

মধুখালী উপজেলার এই ঘটনা এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, এবং অনেকেই আশা করছেন যে জেলা প্রশাসনের তদন্তে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে।