নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে হামলার ঘটনা
নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নীলকুঠি গ্রামের মেশিনঘর এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমানসহ তিনজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা
ঘটনার পর সাইফুর রহমান রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিন ভাই ফায়েজ উদ্দিন (৫৬), আফিল উদ্দিন (৫০) ও রাফি উদ্দিন (৪৮) এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আফিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হামলার পটভূমি ও কারণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে নীলকুঠি গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ করছিলেন লাইনম্যান সোহেল মিয়া। এ সময় আসামিরা তাকে হুমকি দিয়ে কাজে বাধা দেন।
ঘটনা শুনে প্রকৌশলী সাইফুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে, আসামিরা তার গাড়িচালক বাচ্চু মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে আফিল উদ্দিন লোহার রড দিয়ে সাইফুরের মাথায় আঘাত করে তার হেলমেট ভেঙে ফেলেন। গাড়িচালকসহ অন্যরা বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। আহতরা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ক্ষতিপূরণ ও অবৈধ স্থাপনা ইস্যু
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন অভিযুক্তরা। তবে অধিগহণকৃত জমিতে থাকা কিছু স্থাপনা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেগুলোর জন্য কোনো অর্থ পাননি তারা। এ বিষয়টি নিয়েই তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
লাইনম্যান সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমি কাজ করছিলাম, তখন তিনজন লোক আমার গলায় দা ধরে বলে, সরকার তাদের কাছ থেকে জমি নিয়েছে কিন্তু মূল্য দেয়নি। তাই তারা আমাদের কোনো কাজ করতে দেবে না এবং মারধর বা মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
আহত প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, ‘এরআগে মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চালানোর কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা হামলা করে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করেছি।’
প্রকল্প ব্যবস্থাপক-২ মো. মাহবুব-এ-এলাহী বলেন, ‘গত ২০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাহমুদাবাদ এলাকায় আসামিদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ওই সময়ও তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর হামলা চালানো হয়।’
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা হামলার ভিডিও রেকর্ড পেয়েছি, যেখানে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
