ময়মনসিংহে সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ: অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন চালকেরা। রোববার সকালে ত্রিশাল উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়।
ঘণ্টাব্যাপী অবরোধে যানজটের সৃষ্টি
বিক্ষোভের সময় মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। চালকেরা অতিরিক্ত চাঁদা বন্ধের দাবিতে জোরালো স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বেলা ১১টার দিকে ত্রিশাল থানা-পুলিশের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও বিক্ষোভকারী সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেট পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অটোরিকশাগুলোকে দৈনিক ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। মো. দুকুল ও তাঁর দুই সহযোগী মো. রফিক ও মো. রতন নামের তিনজন এই চাঁদা তোলেন।
আজ সকালে ত্রিশাল থেকে মো. ফয়সাল নামের একজন চালক অটোরিকশা নিয়ে মেডিকেল গেট এলাকায় এলে তাঁর কাছে ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন তাঁকে সেখান থেকে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি ত্রিশালে গিয়ে অন্য চালকদের বিষয়টি জানান। সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশার চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
চালকদের অভিযোগ
বিক্ষোভকারী চালকেরা জানান, অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে এভাবে টাকা দিয়ে সড়কে অটোরিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সব ধরনের চাঁদা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশের বক্তব্য
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ গেট এলাকায় ৩০ টাকার বদলে আজ ৭০ টাকা দাবি করলে এ ঘটনা শুরু হয়। যারা চাঁদা তুলত, তাদের আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি না, তা–ও জানি না। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। চালকদের দাবি মেনে নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
