খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর গ্রামবাসীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম ও থানার ওসি মো. নাজির আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ২টার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার বিবরণ
ইউএনও কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় কতিপয় লোক অভিযানকারীদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে প্রায় দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১১ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা ১০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে।
আহতদের তালিকা
আহত অন্যরা হলেন, ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ-১ (২৫), নুর মোহাম্মদ-২ (৩৩) ও খোরশেদ আলম (৩৭)। এছাড়া ইউএনও অফিসের কর্মচারী আব্দুল ওহাব জুয়েল (৩০), ড্রাইভার কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের কর্মচারী হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস কর্মচারী জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার কর্মচারী সিহাব উদ্দিন (২৬), গ্রামবাসি নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫) ও আবুল হাসান (৩০) আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ
অন্যদিকে, আহত গ্রামবাসি দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচের কাজের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলে। এতে বাধা দিলে তারা গ্রামবাসীর ওপর গুলি বর্ষণ করে। কৃষক ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে আরও দুই কৃষকের সেচ পাম্প মেশিন ভাঙা হয়।
প্রশাসনের অবস্থান
তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প মেশিন ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম জানান, শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে।



