কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, সেখানেই উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টায় দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে ‘দেবিদ্বার–চান্দিনা সড়ক’ প্রশস্তকরণ বিষয়ে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি বিনিয়োগের গুরুত্ব
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিতে হবে। ‘দেবিদ্বার–চান্দিনা’ সড়কটি ৩০ ফুট প্রশস্ত করা হলে এ এলাকার গুরুত্ব বাড়বে এবং শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সড়ক উন্নয়নের সম্ভাবনা
তিনি জানান, সড়কটি উন্নয়ন করা হলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ কার্পেটিং করা হবে, যা মুরাদনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের এলাকার যান চলাচল সহজ করবে। এতে ভারি যানবাহনের চলাচল বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্বও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশের পাঁচটি ইউনিয়নে শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্প স্থাপন সহজ হবে। অনেক শিল্পোদ্যোক্তা শুধুমাত্র যোগাযোগ সমস্যার কারণে নিজ এলাকায় বিনিয়োগে আগ্রহী হন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সড়কের প্রস্থ ও বাঁক সোজাকরণ
সড়কটির প্রস্তাবিত প্রস্থ ৮.৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৯.১৪ মিটার (৩০ ফুট) করার দাবি জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সড়কের ২২টি বাঁক সোজা করা হলে যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও অবৈধ স্থাপনা
সভায় তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। গোমতী নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেবিদ্বারে ২৪টি ইটভাটার মধ্যে ৮টির বৈধতা রয়েছে, বাকি ১৬টি অবৈধ উল্লেখ করে সেগুলো উচ্ছেদের কথাও জানান তিনি। ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদুল রহমান, প্রকৌশলী সাঈদ হাসান সিকদার এবং রোড ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম গাফ্ফার খান।
সভায় প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে বড়পর্দায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির নকশা উপস্থাপন করা হয় এবং ৬০টি বাঁকের মধ্যে ২২টি বাঁক সোজা করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।



