খুলনা জেলার ১৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
ঐতিহ্যবাহী ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরকে উৎসবমুখর করে তোলে। গ্রেটার খুলনা ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন কোঅর্ডিনেশন কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আলোচনা সভা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শেখ আশরাফ উজ জামান।
অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি, সিটি বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনাসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা খুলনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে শহরের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক পটভূমি
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪২ সালে ভৈরব ও রূপসা নদীর তীরে নোয়াবাদ থানা ও কিসমত খুলনাকে কেন্দ্র করে খুলনা একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। খুলনা মহকুমা প্রতিষ্ঠার পর কৌশলগত অবস্থান ও ব্রিটিশ প্রশাসনের সম্প্রসারণের কারণে এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনাকে জেলা ঘোষণা করা হয়। তখন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা নিয়ে জেলার আয়তন ছিল ৪,৬৩০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল ৪৩,৫০০। এর আগে খুলনা যশোর জেলার অংশ ছিল। ব্রিটিশ কর্মকর্তা ডব্লিউ এম ক্লে জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কলার ভেলায় নৌকাবাইচ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে ময়ূরী নদীতে বর্ণাঢ্য কলার ভেলায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদীর তীরে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।



