টাঙ্গাইলে দোকানের বাকি চাওয়াকে কেন্দ্রে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ১০
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের মধ্যে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্রে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে হামলা এবং লুটের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্রে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া
সেদিন গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গোলপেচা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মুদি দোকান থেকে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগতকুড়া গ্রামের এক ক্রেতা বাকি না পেয়ে মারামারিতে জড়ান। এই খবর জানাজানির পর আশপাশের কয়েকটি গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘর্ষের দিকে মোড় নেয়।
সালিশি বৈঠক ও সংঘর্ষের বিস্তার
এই পরিস্থিতিতে দুই ইউনিয়নের বিএনপি নেতারা বুধবার দুপুরে নলিন বাজারের অদূরে লাংড়া মোড়ে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে। তবে বৈঠক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জগতকূড়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, তাদের ফেরাতে গিয়ে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং স্কুল শিক্ষক নিয়ামত আলীসহ দশজন আহত হন।
এরপর গোলপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, জগৎকূড়া গ্রামের বাসিন্দারা ভাঙচুর চালিয়ে তাদের সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়, যা স্থানীয় সম্প্রতির উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের বক্তব্য
ভূঞাপুর থানার ওসি সাব্বির রহমান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভূঞাপুর ও গোলাপুর থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গোপালপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিল্লুর রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এই সংঘর্ষ ঘটে। দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্ক ও মারামারির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি অব্যাহত রেখেছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনা টাঙ্গাইল অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক ও স্থানীয় উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



