ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন
ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩ গ্রামের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধের পর তাঁরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন এবং পাশে মানববন্ধন করেন।

বিক্ষোভ ও যানজট

আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে যাত্রী ও পরিবহনচালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

ভূমি সমস্যার ইতিহাস

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী জানান, কুমিল্লা বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ কয়েক দশক ধরে ভূমির মালিকানা, কর আদায় ও চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা দ্রুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান চান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানববন্ধনে বিতরণ করা একটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য এলাকার ১৩ গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়। এতে প্রায় ৪২৩ একর জমি ছাড়তে বাধ্য হন স্থানীয় লোকজন। তবে ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নোটিশ দিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নিজ নিজ জায়গায় পুনর্বাসন ও বসবাসের অনুমতি দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সে সময় ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৯৯ সালে বিমানবন্দর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য ১৪৫ দশমিক ৭৪ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০০২ সালে স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ ওই ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তা ব্যবহার ও বাড়িঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সমস্যা সমাধান না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আরেক বাসিন্দা মাহবুব মজুমদার বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে এই জমি আমাদের মালিকানাধীন। তাহলে আমরা কেন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে কর দেব? আমরা সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই।’

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অংশগ্রহণ ও পুলিশি ব্যবস্থা

মানববন্ধনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা এস এ বারী সেলিম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরীসহ ১৩ গ্রামের কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে একদল লোক মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে নেমে গেলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা–পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে কেউ কেউ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।