ঈশ্বরগঞ্জে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত
ঈশ্বরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির শাহরিয়ার (২১) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরহোসেনপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয়

নিহত মাহির ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার কালীবাড়ি রোডে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার মুসল্লি এলাকায়। মাহিরের বাবা আব্দুল কাইয়ুম রেণু ঈশ্বরগঞ্জ বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী।

স্বপ্নের মোটরসাইকেলই প্রাণ কেড়ে নিল

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাবার কাছে জোর দাবি জানিয়েছিলেন মাহির। প্রথমে বাবা রাজি না হলেও একপর্যায়ে সন্তানের আবদারের কাছে হার মেনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কিনে দেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের মোটরসাইকেলই মাত্র চার মাসের মাথায় কেড়ে নিল তার প্রাণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছেলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আহাজারি করতে করতে মাহিরের বাবা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। আজ সেই মোটরসাইকেলের কারণেই আমার ছেলের লাশ হাতে নিতে হলো।”

দুর্ঘটনার বিবরণ

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন মাহির। পরে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা এলাকা থেকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরহোসেনপুর এলাকায় মনির ড্রাইভারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাহির মোটরসাইকেলসহ সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”