পাবনায় মধুমতি এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, বড় দুর্ঘটনা এড়ালো ট্রেনটি
পাবনায় মধুমতি এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, বড় দুর্ঘটনা এড়ালো

পাবনায় চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে চারটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও আন্তঃনগর ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। চারটি বগি রেখেই প্রায় ৪০০ গজ সামনে এগিয়ে যায় ট্রেনটি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে আজিমনগর ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ট্রেনটির পেছনের দুটি বগির সংযোগস্থলের (জয়েন্ট) হুক খুলে গেলে মূল ট্রেন থেকে চারটি কোচ আলাদা হয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়েই ট্রেনটি চালক থামিয়ে ফেলেন। দ্রুত রেলকর্মীরা বিচ্ছিন্ন বগির সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করলে ট্রেনটি ফের যাত্রা শুরু করে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেইসঙ্গে ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তবে সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত।

পরিবহন কর্মকর্তার বক্তব্য

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনার ২০ মিনিট পর ওই ইঞ্জিন এসে বগি লাগিয়ে আবার ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-রাজশাহীগামী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশন অতিক্রম করছিল। এসময় ট্রেনের পেছন থেকে চারটি বগির সংযোগ হুক খুলে গেলে ইঞ্জিনটি বগি ছাড়াই সামনে এগিয়ে যায়। বিষয়টি টের পাওয়ার পর চালক ফিরে এসে বগির সঙ্গে ইঞ্জিন সংযোগ করলে ৩০ মিনিট পর সকাল প্রায় ৮টার দিকে ফের ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতা

ট্রেনের এক যাত্রী জানান, আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বগি থেমে যায়। পরে দেখি ইঞ্জিন বগি রেখে চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর আবার ইঞ্জিন এসে বগি নিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার সাব্বির ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ইঞ্জিন থেকে বগি খুলে যায়। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনটি বগি থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে চলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ইঞ্জিনটি ফিরে এসে আবার বগি নিয়ে ঢাকার দিকে যাত্রা করে।