টানা বর্ষণে মনপুরায় জলাবদ্ধতা, ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
ভোলার মনপুরায় টানা ৭ দিনের বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় আমন ফসলের ক্ষেত, শাক-সবজি, কাঁচাপাকা রাস্তা ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এখনও ২০ হাজারের ওপরে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ত্রাণ না পেয়ে দুর্গতদের ক্ষোভ
এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কেউ ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়ায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে জুড়ি ও কাঠের ওপর চুলা বানিয়ে রান্না শুরু করেছেন। কৃষকের আমন ফসলের মাঠ পানিতে ডুবে রয়েছে।
যুবদলের স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশন
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিম।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন রোববার দুপুর ৩টায় টানা বর্ষণে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেন। তিনি জানান, মনপুরায় টানা বর্ষণে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়াও ৫ ইউনিয়নে ৫টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতি ও ২০টি ঘর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ২৫ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়কের ক্ষতি হয়। ক্ষতির তালিকা করে জেলায় প্রেরণ করছেন বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন তারা। জেলা থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
কৃষি ক্ষতি ও পরামর্শ
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি ক্ষতি হয়। এছাড়াও ৭০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তৌহিদ জানান, কৃষকদের কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দেওয়া হবে।
সরেজমিন চিত্র
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপকূলজুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে রয়েছে। উপকূলে স্থানীয়দের পাশে যুবদলের নেতাকর্মীরা পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে।



